বাংলাদেশের মেয়েদের টেস্ট অভিষেক কবে
ছেলেদের ম্যাচ ফি বাড়ানোর দিনই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে মেয়েদের পারিশ্রমিক বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। নারী ক্রিকেটারদের ধীরে ধীরে টেস্ট খেলার জন্য তৈরি করতে চাওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন। কিন্তু পাঁচ বছর ধরেই এমন প্রতিশ্রুতির কথা শুনে এসেছেন নারী ক্রিকেটাররা।
সেই প্রতিশ্রুতি আর পূরণ হয়নি। ২০২১ সালের এপ্রিলে আইসিসির সব পূর্ণ সদস্যদেশকেই টেস্ট মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় আইসিসি। সেই থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের মেয়েদের টেস্ট মর্যাদা আটকে আছে শুধু ‘মর্যাদাতেই’।
টেস্ট তো দূর অস্ত, পাঁচ বছরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে টুর্নামেন্টই হয়েছে দুটি। ২০২৩ সালে দীর্ঘ পরিসরের প্রথম টুর্নামেন্ট হয় উইমেন্স বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ। পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা—তিনটি দল খেলে দুই দিনের ম্যাচ। মেয়েদের টেস্ট হয় চার দিনের, তিন দিনের ম্যাচ হলে সেটিই পায় প্রথম শ্রেণির মর্যাদা।
দুই দিনের টুর্নামেন্টের দুই বছর পর গত বছরের শুরুতে দেশের চারটি অঞ্চলে ভাগ করে হয় মেয়েদের বিসিএল। এক দিন বাড়িয়ে এই টুর্নামেন্টে হয়েছে তিন দিনের ম্যাচ। দলের সংখ্যা বাড়ে, দিনও; কিন্তু ওই টুর্নামেন্টের পর আবার প্রায় দুই বছরের বিরতিতে পড়েছে মেয়েদের দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেট।
টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে কোনো হেলদোল না থাকায় হতাশা আছে ক্রিকেটারদের মধ্যেও। নারী দলের সাবেক অধিনায়ক রুমানা আহমেদের কথায় টের পাওয়া গেল তা, ‘ক্রিকেটের সৌন্দর্য হচ্ছে টেস্ট ক্রিকেট, যেকোনো ক্রিকেটারের জন্যই তা স্বপ্নের। কিন্তু আমাদের খেলার সৌভাগ্য হয়নি। পাঁচ বছর আগে টেস্ট মর্যাদা পেয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত এটা নিয়ে কোনো মাথাব্যথা দেখি না। এটা তো কষ্টের জায়গা বটেই, মর্যাদা পাওয়ার এত দিন পরও কোনো প্রস্তুতিই নেই।’
টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে দু–একবার বিসিবি উদ্যোগ নিলেও তা থমকে গেছে মাঝপথে। ক্রিকেটাররা টেস্ট খেলার জন্য তৈরি কি না, তাঁদের তেমন ফিটনেস আছে কি না, বিসিবিও আসলে কতটুকু চায়—এমন
অনেক প্রশ্নও আছে নারী টেস্ট নিয়ে।
নারী দলের প্রধান নির্বাচক সাজ্জাদ আহমেদ যদিও বলছেন, ‘তৈরি কিংবা তৈরি নয়, কোনোটাই আসলে বলার সুযোগ নেই।’ এরপরই তিনি তুলে ধরেন বাস্তবতা, ‘টেস্ট ক্রিকেট কিন্তু বাকি দুটি সংস্করণের থেকে একেবারেই আলাদা। এখানে একটা ঘণ্টায় সবকিছু বদলে যেতে পারে। সব কটি সেশন হেরেও এক–দুইটা সেশনে আপনি ম্যাচ জিতে যেতে পারেন। সেশন বাই সেশনের এসব হিসাব–নিকাশের জন্য প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলে বুঝতে হবে। এখানে একটু ঘাটতি আছে আমাদের।’
গত জুলাইয়ে সিলেটে হয় নারী দলের ফিটনেস ক্যাম্প
গত জুলাইয়ে সিলেটে হয় নারী দলের ফিটনেস ক্যাম্পফেসবুক
নারী ক্রিকেটাররা যত বেশি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলবেন, ততই তারা টেস্ট ম্যাচের জন্য তৈরি হবেন বলে বিশ্বাস সাজ্জাদের। তবে টেস্ট খেলার পথে আরও একটা বাধার কথাও তুলে ধরলেন সাবেক অধিনায়ক রুমানা, ‘ফিটনেস–ঘাটতি একটা বড় ইস্যু। কিন্তু এটার জন্য আপনাকে বেশি বেশি টুর্নামেন্ট খেলতে হবে। না খেললে এটা ঠিক হবে না। আমরা তো প্রায় দুই বছর ধরে দীর্ঘ পরিসরের কোনো ক্রিকেটই খেলি না।’
ঘরোয়া ক্রিকেটে দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেট বাড়াতে চায় বিসিবিও। কিন্তু জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের পাওয়া না গেলে যেকোনো টুর্নামেন্ট আয়োজন করা কঠিন হয়ে যায়, প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারবেন এমন ক্রিকেটারের সংকট আছে সব সংস্করণেই।
বিসিবির একটি সূত্র বলছে, ছেলেদের ক্রিকেটে টেস্টের সাফল্য অনুপ্রাণিত করছে মেয়েদের টেস্ট আয়োজনেও। আগামী বছরের এপ্রিলে নারী বিসিএলের তিন দিনের সংস্করণ আয়োজন করার পরিকল্পনা আছে। তখন থেকেই টেস্টের তোড়জোড়ও শুরু হতে পারে। প্রাথমিক ভাবনা হলো, ২০২৮ সালে গিয়ে নারীদের প্রথম টেস্ট আয়োজন। পাকিস্তানকে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ধরে এ বিষয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে একবার আলোচনাও হয়েছে।
তবে এসবের আগে নিজেদের ঘরোয়া টুর্নামেন্টে আয়োজন করার দিকেই মনোযোগ বিসিবির। নারী উইংয়ের প্রধান রফিকুল ইসলাম বলছেন, ‘আমরা চাইছি যত বেশি সম্ভব ম্যাচ আয়োজন করতে। নারী বিসিএলটা যখন আবার হবে, তখন সেটাতে ম্যাচও বেশি থাকবে আগের চেয়ে।’
তবে সেটি হলেও শিগগিরই টেস্টের দরজা মেয়েদের জন্য যে খুলছে না, তা একরকম পরিষ্কারই।
latest video
news via inbox
Nulla turp dis cursus. Integer liberos euismod pretium faucibua

